দেশের সব মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ ও ‘শিক্ষার্থীবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল তার বিবৃতিতে অনলাইন ক্লাসের ফলে সম্ভাব্য কয়েকটি ভয়াবহ ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন:
শিক্ষায় বৈষম্য: ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা শিক্ষায় চরম বৈষম্য তৈরি করবে।
ডিভাইস আসক্তি: অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়বে।
পঠন-পাঠনে ব্যাঘাত: শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সশরীরে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস ও মান দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কোভিড-১৯ মহামারিকালীন অনলাইন শিক্ষার নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ দরিদ্র অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, ওই সময়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া এবং শিশুশ্রম—উভয়ই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তবে রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্যান্য সব খাত সচল রেখে কেন কেবল শিক্ষাখাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে? তিনি বলেন, “২০২৩ সালের অপরিকল্পিত শিক্ষাক্রম এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার বদলে আবারও অনলাইনে ফিরে যাওয়া জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার শামিল।”
বিবৃতিতে জামায়াত নেতা সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অবিলম্বে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।