শিরোনামঃ
এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা: ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১৭২৮ টাকা হামে ৪৭ শিশুর মৃত্যু: উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও স্কুল বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট ফারিণের কাঁধে ও জ্যোতির কোমরে শাকিবের হাত: অন্তর্জালে সমালোচনার ঝড় শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো চিঠি পায়নি প্রসিকিউশন: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি পদক্ষেপেও কাটছে না জ্বালানি তেলের সংকট: পাম্পে হাহাকার, খোলা বাজারে চড়া দাম সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ‘পরিকল্পনাহীন অনলাইন ক্লাস আত্মঘাতী, জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র’: জামায়াতের প্রতিবাদ হামের প্রাদুর্ভাব: আতঙ্ক নয়, সচেতনতায় সুরক্ষিত থাকুক আপনার শিশু হঠাৎ আসা হামে আমাদের প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার পর বন্ধ থাকবে সব দোকান ও শপিংমল
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

হামের প্রাদুর্ভাব: আতঙ্ক নয়, সচেতনতায় সুরক্ষিত থাকুক আপনার শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক / ০ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়ায়। তাই ঘরের একজনকে হাম হলে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

১. উপসর্গ চিনে নিন

হামের লক্ষণগুলো সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের ১০-১২ দিন পর প্রকাশ পায়। শুরুতে এটি সাধারণ জ্বরের মতো মনে হতে পারে:

  • তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথা।

  • সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

  • গলার ভেতরে বা গালের অভ্যন্তরীণ অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট)।

  • ৩-৫ দিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়া।

২. ৫ এপ্রিলের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি

সরকার আগামী ৫ এপ্রিল (রোববার) থেকে সারাদেশে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করছে। আপনার শিশুর সুরক্ষায় এটিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র:

  • কাদের জন্য: ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে এই টিকা দিতে হবে।

  • আগে টিকা নেওয়া থাকলেও: আপনার শিশু যদি আগে নিয়মিত সূচিতে হামের টিকা (MR) নিয়েও থাকে, তবুও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে তাকে আরও এক ডোজ টিকা দেওয়া জরুরি। এটি তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।


৩. আক্রান্ত শিশুর ঘরোয়া যত্ন

যদি আপনার শিশু ইতিমধ্যেই হামে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে ঘাবড়াবেন না। সঠিক যত্নে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে:

  • বিচ্ছিন্ন রাখা (Isolation): আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ১০-১৪ দিন অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। তার ব্যবহৃত থালা-বাসন, তোয়ালে বা কাপড় আলাদা করে দিন।

  • বিশ্রাম ও তরল খাবার: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন। প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, ডাবের পানি এবং স্যুপ খাওয়ান যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।

  • ভিটামিন-এ (খুবই জরুরি): হামের সংক্রমণে শিশুর শরীরে ভিটামিন-এ এর ঘাটতি দেখা দেয়, যা থেকে অন্ধত্ব হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ান।

  • ত্বক ও চোখের যত্ন: শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে হালকা করে মুছে দিন। চোখ পরিষ্কার রাখতে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।


৪. ভুল ধারণা ও কুসংস্কার এড়িয়ে চলুন

আমাদের দেশে অনেক সময় হামকে ‘মায়ের দয়া’ বা ‘দব্য’ মনে করে চিকিৎসা থেকে দূরে রাখা হয়। মনে রাখবেন:

  • এটি কোনো দৈব ঘটনা নয়, বরং একটি ভাইরাসজনিত রোগ

  • শিশুকে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা বা খাবার দাবার (যেমন মাছ-মাংস) বন্ধ করে দেওয়া হিতে বিপরীত হতে পারে। শিশুকে স্বাভাবিক পুষ্টিকর সব খাবারই দিতে হবে।

৫. কখন হাসপাতালে নেবেন?

হামের কারণে অনেক সময় নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া হতে পারে। যদি দেখেন:

  • শিশুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

  • কান দিয়ে পুঁজ বা পানি পড়ছে।

  • শিশু অতিরিক্ত নেতিয়ে পড়ছে বা কিছুই খেতে পারছে না।

  • তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।


বিশেষ পরামর্শ: আপনার এলাকার টিকাদান কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে আজই যোগাযোগ করুন। ৫ এপ্রিলের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে আপনার শিশুকে নিয়ে যান। একটি টিকা আপনার শিশুকে সারাজীবনের মতো পঙ্গুত্ব বা অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে।

আপনার ছোট্ট সোনামণি সুস্থ থাকুক, নিরাপদে থাকুক।


এ জাতীয় আরো খবর...