দেশে হঠাৎ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম (Measles) পরিস্থিতিকে ‘বজ্রপাতের’ সঙ্গে তুলনা করে নিজেদের অপ্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এই প্রাদুর্ভাবে শিশুদের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অপ্রস্তুতির স্বীকারোক্তি: মন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন যে, হামের এই ভয়াবহতা অনেকটা আকস্মিক বজ্রপাতের মতো এসেছে, যার জন্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।
জরুরি টিকাদান: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউনিসেফের (UNICEF) সহায়তায় সংগৃহীত টিকা দিয়ে আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
টিকা সংগ্রহ: বর্তমানে বড় পরিসরে টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, যা হাতে পেতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
আশ্বাস: স্বাস্থ্য পোর্টারদের বেতন এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে দ্রুততম সময়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যার অর্ধেকই (৫ জন) হামে আক্রান্ত। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালেই হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, রোগীর চাপ সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ডাক্তার, নার্স ও পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন।
হামের বিস্তার রোধে সরকার দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগামী ৫ এপ্রিল (রোববার) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায়:
বয়সসীমা: ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
ছুটি বাতিল: টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সারাদেশে সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।