সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও রাজধানীসহ সারা দেশে জ্বালানি তেলের সংকট কিছুতেই কাটছে না। বৈধ পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের তীব্র আকাল দেখা দিলেও, অসাধু চক্রের মাধ্যমে খোলা বাজারে ঠিকই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে তেল মিলছে না।
সীমিত বিক্রি ও বন্ধ পাম্প: কোথাও পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার যেসব পাম্প খোলা রয়েছে সেখানেও অত্যন্ত সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
দীর্ঘ লাইন ও হাহাকার: একটু তেলের আশায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেককে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহে এই ব্যাপক ঘাটতি এবং গ্রাহকদের চরম অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে দেশে এক অঘোষিত জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুব্ধ চালকদের প্রধান অভিযোগ প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে। তাদের মতে, যথাযথ তদারকির অভাবেই সিন্ডিকেট করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পাম্পে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য তেল না থাকলেও, খোলা বাজারে বা কালোবাজারে বেশি দামে ঠিকই তেল পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, মজুত ধরে রাখতে এবং সংকট সামাল দিতে পাম্প কর্তৃপক্ষগুলোও নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বর্তমানে ‘ফুয়েল কার্ড’ বা গাড়ির হালনাগাদ ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে অনেক চালককেই তেল সরবরাহ করছে না পেট্রোল পাম্পগুলো। এতে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।