পাপ, অন্ধকার আর মৃত্যুর বিরুদ্ধে জীবনের জয়ের বার্তা নিয়ে আজ রোববার সারা দেশে পালিত হচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে। খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্টের অলৌকিক পুনরুত্থানের এই স্মৃতিবিজড়িত দিনটি যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করছেন বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা।
খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুসারে, আজ থেকে দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে ‘গুড ফ্রাইডে’তে বিপথগামী ইহুদিরা যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। কিন্তু মৃত্যুর তৃতীয় দিবসে অর্থাৎ রোববারে তিনি মৃত্যু থেকে জেগে ওঠেন। মৃত্যুকে জয় করে যিশুর এই ফিরে আসা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে এক নতুন আশার আলো এবং অনন্ত জীবনের প্রতীক।
ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই রাজধানী ঢাকার রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চ, তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চসহ দেশের বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ উপাসনা ও ‘প্রাতঃকালীন প্রার্থনা’র আয়োজন করা হয়। প্রার্থনায় বিশ্বশান্তি, দেশের সমৃদ্ধি এবং মানবজাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। গির্জাগুলোকে আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে সাজানো হয়েছে।
ইস্টার সানডের অন্যতম আকর্ষণ হলো শিশুদের মধ্যে রঙিন ডিম বা ‘ইস্টার এগ’ বিনিময়। ডিমকে নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। যিশুর পুনরুত্থান যেমন নতুন জীবনের সূচনা, রঙিন ডিমের আদান-প্রদানও সেই আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অনেক গির্জায় শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
“আমিই পুনরুত্থান ও জীবন; যে আমাতে বিশ্বাস করে, সে মরিলেও বাঁচিবে।”
— খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি রইলো উৎসবের শুভেচ্ছা —
যিশুর এই পুনরুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের গির্জাগুলোতে দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান চলবে। বড়দিনের পর এটিই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসব।