শিরোনামঃ
নড়াইলে ক্লাস চলাকালে টিনের চালের ওপর গাছ, আহত ২ শিক্ষার্থী দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ৩ মাস বিশেষ সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সয়াবিনের বাজারে ফের আগুন: বোতল ও খোলা তেল লিটারে বাড়ল ৪ টাকা প্লাবনের পদধ্বনি: বিপৎসীমা ছাড়াল ৪ নদী, ৫ জেলায় অকাল বন্যার শঙ্কা চেতনা বিক্রির পণ্য নয়: সংসদে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধনের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের ‘জুলাই থেকেই বিনামূল্যে ড্রেস ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা’: শিক্ষামন্ত্রী সংসদের আঙিনায় নারীরা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ৪৯, আটকে আছে একটির ভাগ্য শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস: শিগগিরই ফিরছেন চেনা রাজনৈতিক আঙিনায় খন্দকার মোশাররফের ১০৫ হিসাব অবরুদ্ধ কিউই বধের পুরস্কার: র‍্যাংকিংয়ে টাইগারদের বিশাল উল্লম্ফন
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস: শিগগিরই ফিরছেন চেনা রাজনৈতিক আঙিনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল, অবশেষে তার অবসান ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে হাঁটছেন এবং খুব শিগগিরই তিনি তার চিরচেনা স্বাভাবিক ও কর্মমুখর জীবনে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে তার সহধর্মিণী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই স্বস্তিদায়ক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। মির্জা আব্বাসের মতো একজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সুস্থতার খবর শুধু তার দলীয় নেতাকর্মীদের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বার্তা বহন করে।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার অনেক সময় চরম বিভ্রান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি এবং তার জীবনাবসান সংক্রান্ত ভিত্তিহীন নানা গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় নেতার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত গুজবে স্বভাবতই দেশজুড়ে তার অগণিত সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে এই গুজবগুলোকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছেন তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং তিনি আগের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং দ্রুত আরোগ্য লাভ করছেন। খুব দ্রুতই তাকে নিয়ে দেশে ফেরার আশাবাদও ব্যক্ত করেছে তার পরিবার। একজন অসুস্থ মানুষকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ানোর মানসিকতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এই ঘটনাটি তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।

মির্জা আব্বাসের এই আকস্মিক অসুস্থতার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১১ মার্চ, পবিত্র রমজান মাসের এক সন্ধ্যায়। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি হঠাৎ করেই শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ বোধ করেন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের সদস্যরা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত তাকে রাজধানীর স্বনামধন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও, বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পরও যখন আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছিল না, তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অবশেষে ১৫ মার্চ একটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে চলা দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তিনি ধীরে ধীরে সংকটমুক্ত হতে শুরু করেন।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তার একান্ত সহকারী সচিবের দেওয়া সর্বশেষ চিকিৎসাগত তথ্যগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার চোখে পড়ার মতো ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই তিনি বিছানায় উঠে বসতে সক্ষম হয়েছেন, যা একজন জটিল রোগীর ক্ষেত্রে সুস্থতার দিকে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের সহায়তায় তাকে হুইলচেয়ার বা সাধারণ চেয়ারেও বসানো হচ্ছে। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, তিনি এখন অল্প অল্প করে কথা বলতে পারছেন এবং চারপাশের মানুষের কথায় সাড়া দিচ্ছেন। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এবং স্নায়বিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে পারাটা চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত বড় একটি মাইলফলক।

শারীরিক অবস্থার এই সন্তোষজনক উন্নতির পর তার চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তাকে গত ১৪ এপ্রিল মালয়েশিয়ার একটি বিশ্বমানের পুনর্বাসন কেন্দ্রে বা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় এই স্থানান্তরের মূল কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা এবং একটানা বিছানায় শুয়ে থাকার ফলে পেশির যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য এখন তার নিবিড় ও আধুনিক ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন। মালয়েশিয়ার এই ধরনের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো বিশ্বব্যাপী তাদের অত্যাধুনিক নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন এবং ফিজিক্যাল থেরাপির জন্য অত্যন্ত সমাদৃত। সেখানে বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে তাকে নিয়মিত শারীরিক কসরত করানো হচ্ছে, যাতে তার পেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য পুরোপুরি ফিরে আসে। মির্জা আব্বাসের শারীরিক সক্ষমতা শতভাগ ফিরিয়ে এনে তাকে আবারও একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনাই এখন এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একমাত্র লক্ষ্য। তার দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

মির্জা আব্বাসের এই অসুস্থতা এবং সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াইটি কেবল একজন ব্যক্তির শারীরিক সংগ্রাম নয়, বরং এর সাথে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে আছে। তিনি কেবল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্যই নন, দীর্ঘ কয়েক দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে রাজধানীর উন্নয়নে তার অবদান আজও স্মরণীয়। এছাড়া বিগত সরকারগুলোর আমলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেছেন। মাঠের রাজনীতিতে যেমন তিনি একজন তুখোড় ও আপসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত, তেমনি টেবিলের কূটনীতি এবং দলীয় নীতিনির্ধারণেও তার বিচক্ষণতা সর্বজনবিদিত।

সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার গুরুত্ব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজধানী ঢাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৮ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শক্ত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পরাজিত করে নিজের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি শুধু একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই নন, বরং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মতো এমন একটি স্পর্শকাতর ও দায়িত্বশীল জায়গায় তার মতো একজন অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান এবং পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদের উপস্থিতি বর্তমান প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এবং প্রয়োজনীয়। তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক দলের ভেতরেও ভারসাম্য রক্ষা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে মির্জা আব্বাসের বিকল্প খুব কমই রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জননেতা সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করেছেন। তাই তার অসুস্থতার খবর দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা লাখো সমর্থকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মসজিদে মসজিদে তার রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে। সবারই একটাই চাওয়া—এই রাজনৈতিক বটবৃক্ষটি যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবারও দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।

জীবনের একটি বড় অংশ তিনি দেশের রাজনীতি এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্যয় করেছেন। বহু চড়াই-উতরাই, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, কারাবরণ এবং নানা প্রতিকূলতা তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করেছেন। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদের মতো জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবারও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং শারীরিক এই কঠিন পরীক্ষাকে জয় করে তিনি এক নতুন জীবনীশক্তি নিয়ে ফিরে আসবেন, এমনটাই বিশ্বাস তার অগণিত শুভানুধ্যায়ীর। মালয়েশিয়ার পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রতিদিনের একটু একটু করে উন্নতি তার সেই প্রবল ইচ্ছাশক্তিরই প্রতিফলন। গুজব আর উৎকণ্ঠার মেঘ সরিয়ে অচিরেই হয়তো মির্জা আব্বাস তার সেই চিরচেনা তেজোদীপ্ত চেহারায়, চেনা হাসিতে দেশের মাটিতে পা রাখবেন এবং আবারও জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে নিজের সদর্প উপস্থিতি জানান দেবেন। দেশবাসী এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে।


এ জাতীয় আরো খবর...