শিরোনামঃ
নড়াইলে ক্লাস চলাকালে টিনের চালের ওপর গাছ, আহত ২ শিক্ষার্থী দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ৩ মাস বিশেষ সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সয়াবিনের বাজারে ফের আগুন: বোতল ও খোলা তেল লিটারে বাড়ল ৪ টাকা প্লাবনের পদধ্বনি: বিপৎসীমা ছাড়াল ৪ নদী, ৫ জেলায় অকাল বন্যার শঙ্কা চেতনা বিক্রির পণ্য নয়: সংসদে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধনের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের ‘জুলাই থেকেই বিনামূল্যে ড্রেস ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা’: শিক্ষামন্ত্রী সংসদের আঙিনায় নারীরা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ৪৯, আটকে আছে একটির ভাগ্য শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস: শিগগিরই ফিরছেন চেনা রাজনৈতিক আঙিনায় খন্দকার মোশাররফের ১০৫ হিসাব অবরুদ্ধ কিউই বধের পুরস্কার: র‍্যাংকিংয়ে টাইগারদের বিশাল উল্লম্ফন
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

চেতনা বিক্রির পণ্য নয়: সংসদে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধনের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে অত্যন্ত জোরালো ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সংসদে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে বিক্রি করেন না, বরং তারা একে গভীরভাবে হৃদয়ে ধারণ করেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর সেনানীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে সংসদে একটি নতুন রীতি চালুরও প্রস্তাব দেন।

নিজের বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও এর চেতনা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। বর্তমান সংসদের সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় শিবিরেই রণাঙ্গনের বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর প্রস্তাব করে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনার সময় এই বীর সন্তানদের নামের আগে যদি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পদবিটি ব্যবহার করা হয়, তবে তা তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের একটি চমৎকার নিদর্শন হয়ে থাকবে। এর ফলে নতুন প্রজন্মও আমাদের এই জাতীয় বীরদের সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে ও শিখতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদের ভেতরে এই সম্মানজনক প্রথা চালু হলে, এর ইতিবাচক প্রভাব সংসদের বাইরেও পড়বে এবং সামাজিকভাবেও তারা এই সম্মান পাবেন।

শামা ওবায়েদের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদের স্পিকার মুক্তিযুদ্ধের ও মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় সাম্প্রতিক সময়ের কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। স্পিকার সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং তা অনুমোদনও লাভ করেছে। পরিবর্তিত এই নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, কেবল তাদেরকেই মূল ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা অস্ত্র হাতে না নিয়ে অন্যান্যভাবে যুদ্ধে সহায়তা করেছেন, তাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক’ হিসেবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। স্পিকার জানান, সংসদে সাধারণত সদস্যদের আসনভিত্তিক পরিচয়েই ডাকার রেওয়াজ রয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টি এখানে উহ্যই থাকে। তবে কেউ যদি সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পড়েন এবং বিষয়টি সম্পর্কে স্পিকার নিশ্চিত হন, তবে তাকে সেই সম্মানজনক উপাধিতে ডাকার চেষ্টা করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে এই বিশেষ সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা ধরনের আলোচনা, সমালোচনা ও নীতিগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহারের বিধান করা হয়। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক) মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে এই ‘বীর’ শব্দ ব্যবহারের বাধ্যতামূলক বিধানটি বাতিলের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। মূলত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ হিসেবেই তখন এই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। আজকের সংসদে শামা ওবায়েদের এই প্রস্তাব প্রমাণ করে যে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সবসময়ই আন্তরিক।


এ জাতীয় আরো খবর...