শিরোনামঃ
নড়াইলে ক্লাস চলাকালে টিনের চালের ওপর গাছ, আহত ২ শিক্ষার্থী দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার: ৩ মাস বিশেষ সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সয়াবিনের বাজারে ফের আগুন: বোতল ও খোলা তেল লিটারে বাড়ল ৪ টাকা প্লাবনের পদধ্বনি: বিপৎসীমা ছাড়াল ৪ নদী, ৫ জেলায় অকাল বন্যার শঙ্কা চেতনা বিক্রির পণ্য নয়: সংসদে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধনের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের ‘জুলাই থেকেই বিনামূল্যে ড্রেস ও ব্যাগ পাবে শিক্ষার্থীরা’: শিক্ষামন্ত্রী সংসদের আঙিনায় নারীরা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ৪৯, আটকে আছে একটির ভাগ্য শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস: শিগগিরই ফিরছেন চেনা রাজনৈতিক আঙিনায় খন্দকার মোশাররফের ১০৫ হিসাব অবরুদ্ধ কিউই বধের পুরস্কার: র‍্যাংকিংয়ে টাইগারদের বিশাল উল্লম্ফন
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

নড়াইলে ক্লাস চলাকালে টিনের চালের ওপর গাছ, আহত ২ শিক্ষার্থী

নড়াইল প্রতিনিধি / ১ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

নড়াইলের কালিয়া পৌরসভায় ক্লাস চলাকালীন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ছোট কালিয়া এলাকার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সিয়াম শেখ (১১) ছোট কালিয়া গ্রামের নুর জামালের ছেলে। অন্যজন রামনগর গ্রামের জহির শেখের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (৯)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছিল। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হলে বিদ্যালয়ের টিনশেড শ্রেণিকক্ষের ওপর পাশের একটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ নারিকেল গাছ উপড়ে পড়ে। এতে টিনের চাল দুমড়েমুচড়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। আকস্মিক এই ঘটনায় ক্লাসরুমে থাকা শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় সিয়াম ও মাজেদুল গুরুতর আহত হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সিয়াম শেখের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সিয়ামের মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের পাশে গাছটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তা অপসারণ বা ডালপালা ছাঁটাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঝড়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কেন শিক্ষার্থীদের ওই ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। আমরা বিদ্যালয়ের সকল নথিপত্র তলব করেছি। তদন্তে যদি স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।


এ জাতীয় আরো খবর...