বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

আজো অর্ধাঙ্গিনী ছবিতে জয়া আহসানের অভিনয়ে মুগ্ধ ওপার বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সিনেমায় নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে প্রতিনিয়ত নতুন নজির গড়ে চলেছেন বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলির ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিক্যুয়েল ‘আজো অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি আবারও ওপার বাংলার চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাধারণ দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। জুলাই মাসের ১০ তারিখে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সুরিন্দর ফিল্মস জানিয়েছে যে, মুক্তির পর থেকে প্রেক্ষাগৃহের অধিকাংশ প্রদর্শনীই দর্শকপূর্ণ বা হাউসফুল যাচ্ছে। প্রথম কিস্তির সাফল্যের পর সিক্যুয়েলটি নিয়ে দর্শকদের যে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতুহল ছিল, প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এবং সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া সেই প্রত্যাশাকে পুরোপুরি পূরণ করেছে বলে মনে করছেন টলিউডের চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।

সিনেমায় জয়া আহসানের চরিত্রটির নাম ‘মেঘনা’। এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় এবং পর্দায় নিখুঁত উপস্থিতির প্রসংশায় পঞ্চমুখ ওপার বাংলার প্রভাবশালী বিভিন্ন গণমাধ্যম। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম দৈনিক সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রতিদিন’ তাদের প্রকাশিত পর্যালোচনায় জয়া আহসানের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে এই চরিত্রের জন্য একদম উপযুক্ত বা পারফেক্ট বলে আখ্যায়িত করেছে। পত্রিকাটির মতে, জয়ার উপস্থাপন করা আবেগঘন গভীরতা ও শক্তিশালী স্ক্রিন প্রেজেন্স পুরো সিনেমাটিকে এক অনন্য আবেগের ধারায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। জয়া আহসান পর্দায় আসা মাত্রই গল্পের গতি ও আবেগের পারদ বদলে যায়, যা দর্শকদের কাহিনীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে।

ওপার বাংলার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ওয়াল’ জয়া আহসানের চরিত্রের প্রকাশকে সংযত অথচ গভীর প্রভাব সৃষ্টিকারী বলে বর্ণনা করেছে। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সিক্যুয়েল গল্পে মেঘনা চরিত্রের সংলাপের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বেশ সীমিত থাকলেও, কেবল চোখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গি দিয়ে জয়া চরিত্রটিকে অবিস্মরণীয় করে তুলেছেন। অপরাধবোধ, গভীর ভালোবাসা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মনের মধ্যকার গভীর সংশয়ের মতো জটিল মানবিক আবেগগুলো জয়া যেভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় লেগেছে। বিশেষ করে সহশিল্পী চূর্ণী গাঙ্গুলির সঙ্গে জয়া আহসানের মুখোমুখি দৃশ্যগুলো সিনেমার নাট্যমুহূর্ত এবং ভাবাবেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি তাদের বিশেষ বিশ্লেষণে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জয়ার অভিনয়ের প্রশংসা করে লিখেছে যে, একজন নারী যখন তার ব্যক্তিগত ভালোবাসা, অপরাধবোধ এবং মানসিক দোলাচলের মাঝে পড়ে তিল তিল করে ভেঙে পড়ে, সেই ভঙ্গুর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে জয়া অত্যন্ত পরিমিত ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও প্রথম ছবির তুলনায় এই সিক্যুয়েলে তাঁর চরিত্রটির আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্র কিছুটা সীমাবদ্ধ বা কম ছিল, তবুও জয়ার পরিণত ও মাপা অভিনয় মেঘনা চরিত্রের ভিতরের মানসিক অস্থিরতা ও সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে খুব স্পষ্টভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে। খুব বেশি নাটকীয়তা না দেখিয়ে কেবল অভিব্যক্তির সংযমে চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার এই ক্ষমতাকেই জয়া আহসানের অভিনয়ের প্রধান জোর বলে মনে করছেন তাঁরা।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি কলকাতার প্রখ্যাত গণমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ মেঘনা চরিত্রটির চিত্রনাট্য ও লেখা নিয়ে সামান্য সমালোচনাও প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, জয়া আহসান নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে অভিনয় করলেও, সিক্যুয়েলে মেঘনার চরিত্রের মানসিক যাত্রাপথকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কিছুটা জটিল করে তোলা হয়েছে। চরিত্রটির এই জটিল রূপায়ণের কারণে সাধারণ দর্শকরা সব সময় মেঘনার আবেগের সঙ্গে নিজেদের পুরোপুরি মেলাতে বা সহানুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কিছুটা বাধা অনুভব করতে পারেন। তবে তা সত্ত্বেও জয়া আহসানের অভিনয়ের প্রতি মনোযোগ বা তাঁর পেশাদারিত্বের অভাব ছিল না বলেও তারা স্বীকার করেছে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ অভিনেত্রীর কাজের প্রশংসায় লিখেছে যে, এই নতুন সিক্যুয়েলটির মাধ্যমে মেঘনা চরিত্রটির প্রতি দর্শকদের মনে আরও গভীর ভালোবাসা ও অনুভূতির জায়গা তৈরি হয়েছে। চরিত্রটি সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জয়া আহসান সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, মেঘনা তো প্রথম ছবিতেই একটি প্রতিষ্ঠিত চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সময়ের সাথে সাথে সে এখন কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং দর্শকদের ঘরের মানুষের মতো পরিবার ও ভালোবাসার পূর্ণ স্বীকৃতি পেয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে মেঘনার কোলে থাকা শিশুটি বড় হয়েছে এবং তার জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন মানুষ। মেঘনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী। তবে জীবনের এই নতুন মোড়ে এসে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভেতর তাকে আবার কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা এবং অভ্যন্তরীণ মানসিক টানাপোড়েনের মুখোমুখী হতে হয়। ‘আজো অর্ধাঙ্গিনী’ মূলত মেঘনার জীবনের সেই পরিবর্তিত ও জটিল অভিজ্ঞতার গল্পটিকেই বিশ্বস্ততার সাথে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে।

উল্লেখ্য যে, ভারতীয় বাংলা সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির এই নতুন চলচ্চিত্রে জয়া আহসানের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা কৌশিক সেন এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী চূর্ণী গাঙ্গুলি। দুই বাংলার এই শক্তিশালী শিল্পীদের পারস্পরিক কেমিস্ট্রি এবং চমৎকার অভিনয় শৈলী সিনেমাটিকে একটি উচ্চমানের পারিবারিক ও সামাজিক ড্রামার রূপ দিয়েছে। সিনেমাটির ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এটিই প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ভালো অভিনয় এবং খাঁটি গল্প দিয়ে কীভাবে ওপার বাংলার দর্শকদের হৃদয়ে জয়া আহসান নিজের অবস্থান দিনে দিনে আরও মজবুত করে চলেছেন।


এ জাতীয় আরো খবর...