শিরোনামঃ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

নতুন আন্দোলনের ইঙ্গিত জামায়াত-এনসিপির!

রাজনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা / ৩ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের মূল ভিত্তি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে রাজপথের পর এবার শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। জুলাই সনদ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই আইনি প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজপথে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি।

বিতর্কের মূলে ‘জুলাই সনদ’ ও হাইকোর্টের রুল

রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা হিসেবে যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সর্বমহলে আলোচিত হয়েছিল, সেটিই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজনরেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দুজন আইনজীবী জুলাই সনদ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের সময় দিয়ে রুল জারি করেছেন— কেন এই অধ্যাদেশ ও সনদকে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না? আদালতের এই আকস্মিক হস্তক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছে না গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো।

‘আদালতের ঘাড়ে বন্দুক’ রাখার অভিযোগ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, অতীতে অনেক সরকারই নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন বা দায় এড়াতে আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। একই অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জুলাই সনদ ও গণভোটকে অবৈধ ঘোষণার চেষ্টা করছে সরকারি দল। এটি একটি বিপজ্জনক খেলা।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বা কোনো বড় রাজনৈতিক দল যদি অতীত সরকারের মতো একই পথে হাঁটতে চায়, তবে তার চরম মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে এই প্রক্রিয়ার পেছনে বিএনপির কোনো প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকলে সেই দায়ভারও তাদের নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপি ও জামায়াতের নতুন মেরুকরণ

ভেতরের খবর অনুযায়ী, জুলাই সনদ রক্ষার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কনভেনশন পার্টি) একাট্টা হচ্ছে। দল দুটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জুলাই সনদ বাতিল হলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং ত্যাগের অবমাননা হবে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের রাজপথের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে এই নতুন জোট।

জনমনে সংশয় ও প্রত্যাশা

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মনে রাষ্ট্র সংস্কারের যে পাহাড়সম প্রত্যাশা ছিল, আইনি মারপ্যাঁচে তা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে কি না— সেই প্রশ্ন এখন জনমনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই সনদ কেবল একটি দলিল নয়, এটি ছিল হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। আদালত এবং রাজনীতির এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না সাধারণ মানুষের সংস্কারের স্বপ্ন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জুলাই সনদ ও গণভোট: আইনি লড়াইয়ের মূল পয়েন্ট

⚖️ হাইকোর্টের রুল:
সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। প্রশ্ন তোলা হয়েছে— জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না?
🔍 জামায়াত-এনসিপি’র অভিযোগ:
দলগুলোর দাবি, রাজনৈতিকভাবে সংস্কার ঠেকাতে না পেরে এখন ‘আদালতের ঘাড়ে বন্দুক’ রেখে জুলাই সনদ বাতিলের ষড়যন্ত্র চলছে। এটি ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।

📌 জুলাই সনদের ৩টি প্রধান সংস্কার লক্ষ্য:

  • রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য: একক ব্যক্তির ক্ষমতা কমিয়ে সংসদীয় ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
  • গণভোটের পুনঃপ্রবর্তন: গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরাসরি জনগণের রায় নেওয়ার বিধান রাখা।
  • বিচারবিভাগের স্বাধীনতা: রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
* রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবে।


এ জাতীয় আরো খবর...