রমজান হলো আত্মসংযম ও শারীরিক শুদ্ধির মাস। এই সময়ে আমাদের দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয় বলে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তির ঝুঁকি থাকে। কফি প্রেমীদের জন্য রমজানে কফি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া কঠিন হতে পারে, তবে পানের সময় ও পরিমাণে পরিবর্তন এনে সুস্থ থাকা সম্ভব।
সেহরিতে কফি পান করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার শরীরের ক্যাফেইন সহনশীলতার ওপর।
সতেজ থাকতে: অনেকে সেহরিতে অল্প কফি পান করেন যাতে সারাদিন কাজে সতেজ থাকা যায়।
ঘুমের ব্যাঘাত: ক্যাফেইন অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। যদি কফি খেলে আপনার খাবারের পর ঘুমাতে কষ্ট হয়, তবে সেহরিতে এটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ইফতারের শুরুতেই কফি পান করা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রিহাইড্রেশন জরুরি: ইফতার প্রথমে পানি ও খেজুর দিয়ে শুরু করুন। এরপর হালকা খাবার বা স্যুপ খেয়ে শরীরকে রিহাইড্রেট হতে সময় দিন।
রক্তে শর্করা: শরীর পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার পর কফি পান করলে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে এবং সন্ধ্যার সময়টি উপভোগ্য হয়।
ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিন নির্বাচনের দিকে নজর দিন।
অ্যারাবিকা বিন: ১০০ শতাংশ অ্যারাবিকা (Arabica) বিনে তৈরি কফিতে রোবাস্তার তুলনায় ক্যাফেইন কম থাকে, কিন্তু এর স্বাদ ও সুঘ্রাণ অটুট থাকে।
ডিক্যাফ কফি: যারা ক্যাফেইন পুরোপুরি ছাড়তে চান না কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে চান, তারা ডিক্যাফ (Decaf) কফি বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে ‘সুইস ওয়াটার পদ্ধতিতে’ তৈরি ডিক্যাফ কফিতে কোনো রাসায়নিক থাকে না।
কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম সুইটেনার মেশালে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায় এবং পরে শরীরে ক্লান্তি নেমে আসে। তাই চিনি ছাড়া বা খুব সামান্য চিনি দিয়ে কফি পানের অভ্যাস করা ভালো।
কফি পান করলেও মনে রাখবেন, এটি পানির বিকল্প নয়। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান নিশ্চিত করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ক্যাফেইনজনিত মাথাব্যথা ও ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।
সারকথা: রমজান মানেই সবকিছু বর্জন নয়, বরং সচেতনতা। সঠিক সময়ে এবং পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে এটি আপনার রোজার ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি দিতে পারে।