নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এমবি ফারহান-৪ লঞ্চের কেবিনে এক কলেজশিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল বের করলে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে হাতিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমবি ফারহান-৪ লঞ্চটিতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। লঞ্চের কেবিনের ভেতর ওই কলেজছাত্রীকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে সোমবার ঢাকার কোতোয়ালী থানায় তার ভাই বাদী হয়ে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনা জানাজানির পর হাতিয়া থানা পুলিশ অভিযানে নামে। বুধবার সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬): বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের বাসিন্দা।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২): একই ইউনিয়নের জোটখালী গ্রামের বাসিন্দা।
ধর্ষণের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার হাতিয়া শহরে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি। মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
ওসি কবির উদ্দিন জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
লঞ্চের মতো একটি গণপরিবহনের কেবিনে এমন পৈশাচিক ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।