দীর্ঘ ১৭ মাস পর আজ বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সংসদ নানা কারণেই ঐতিহাসিক। একদিকে যেমন প্রায় দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারি দলে ফিরছে বিএনপি, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলের আসনে প্রথমবারের মতো বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আজকের অধিবেশন শুরু হবে চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে। যেহেতু দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্তির পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য, তাই আজ স্পিকারের চেয়ারটি খালি থাকবে।
কার্যপ্রক্রিয়া: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু করবেন। তিনি বিধি মোতাবেক একজন প্রবীণ সংসদ সদস্যকে অধিবেশন পরিচালনার জন্য আহ্বান জানাবেন।
নির্বাচন: সেই অস্থায়ী সভাপতির অধীনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন এবং তাদের জোটভুক্ত দলগুলোসহ (এনসিপি-৬, খেলাফত মজলিস-৩) মোট ৭৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসছে। উল্লেখ্য, সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান—দুজনই প্রথমবারের মতো এমপি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আজ সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো পাস না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
বিশেষ কমিটি: এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠন করা হবে। উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ’।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর ভাষণের বিরোধিতা করা হয়েছে।
লুই আই কানের নকশা করা এই সংসদ ভবন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল (ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা)। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ে মেরামত কাজ শেষ করে আজ সংসদকে অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত করেছে। এলাকায় জারি করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী।
সকাল ১১টা: অধিবেশন শুরু ও অস্থায়ী সভাপতি নির্বাচন।
দুপুর: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ।
বিকাল: সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল নির্ধারণ, শোক প্রস্তাব ও ১৩৩ অধ্যাদেশ পেশ।
সন্ধ্যা: রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও অধিবেশন মুলতবি।
সংসদ সচিবালয়ের সূত্রমতে, ঈদের ছুটির কারণে ১৫ মার্চের পর অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি হতে পারে।