ভারত যে বিশেষ সুবিধায় রাশিয়ার জ্বালানি তেল কিনছে, বাংলাদেশের জন্য ঠিক একই ধরনের ‘অস্থায়ী ছাড়’ চেয়েছে ঢাকা। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে মূল ফোকাস ছিল রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেল আমদানির বিষয়টি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভারতকে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, যদি ভারতের জন্য এমন সুযোগ থাকে, তবে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশও সেই একই সুযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির জন্য এই মুহূর্তে শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আমাদের অনুরোধটি তিনি দ্রুত ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এখন আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি যে সেখান থেকে কী উত্তর আসে।”
তেল আমদানির পাশাপাশি বৈঠকে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছোঁয়ার উপক্রম হয়েছে। হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনতে পারা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্থনৈতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।