শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

চীনের সঙ্গে গভীর শিল্প অংশীদারত্ব গড়তে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ এখন বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকালে চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে চীনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং চীনের সঙ্গে গভীর শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া চীনের ১২৫ জন ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক পুঁজিসংক্রান্ত কার্যপ্রণালি ঢেলে সাজাতে একটি ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা এবং নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, এই সংস্কারগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে তাদের ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে উন্নত সেবা প্রদানে সহায়তা করতে পারি এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার বাজার থেকেও তারা লাভবান হতে পারবে।” এই দ্বিপাক্ষিক সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ এবং মোংলায় একটি ‘দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এই শিল্প অবতরণ কেন্দ্রগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, দক্ষ কর্মী ও সরবরাহকারীসহ একটি পূর্ণাঙ্গ দীর্ঘমেয়াদি ইকোসিস্টেম প্রদান করছে, যা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের কার্যকর সেবা প্রদানের লক্ষে খুব দ্রুত চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক ও ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট সক্রিয় করেছে, যাতে সব তথ্য সহজে পাওয়া যায়।

চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বিনিয়োগ চুক্তি আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি উন্নত করার জন্যও কাজ করছি, যাতে বিনিয়োগকারীরা আরও শক্তিশালী আস্থা, সুস্পষ্ট সুরক্ষা এবং আধুনিক কাঠামোগত সুবিধা পান”।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফোরাম থেকে একটি অভিন্ন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের জন্য পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উল্লেখ্য, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...