ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার ভয়াবহ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ব্যাপক মাত্রায় সামরিক হামলা চালানো হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় দেশটির সব বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ভাষণের মূল বিষয়বস্তু ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি:
প্রস্তর যুগে ফেরানোর হুমকি: ইরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমরা ইরানে অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাব। আমরা ইরানকে প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠাব, কারণ ওটাই তাদের থাকার যোগ্য জায়গা।” উল্লেখ্য, প্রস্তর যুগ বলতে মানব সভ্যতার সেই প্রাচীন সময়কে বোঝায় (প্রায় ৩৩ লাখ বছর আগে), যখন মানুষ আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে মারণাস্ত্র তৈরি—সবকিছুতেই কেবল পাথরের ব্যবহার করত।
বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংসের আল্টিমেটাম: চুক্তিতে না এলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “এই সময়ের মধ্যে যদি তারা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে আমাদের চোখ প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকেই থাকবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালাব, এবং সেটি হয়তো একই সঙ্গে হতে পারে।”
অল্প সময়ে লক্ষ্য অর্জনের দাবি: সামরিক অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা হামলা চালিয়ে যাব। এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু এগিয়েছি, তাতে আমি বলতে পারি—খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ইরানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু অর্জনের কাজ শেষ করতে পারব।”
নেতৃত্বশূন্য ইরানে ‘স্বয়ংক্রিয়’ সরকার বদল: ইরানের সরকার পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল না দাবি করে ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, “যেহেতু তাদের বেশিরভাগ নেতাই ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন, তাই আপনা-আপনিই দেশটিতে সরকার পরিবর্তন হয়ে গেছে।”
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই ভাষণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। ইরান যদি এই স্বল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।