ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) বর্তমানে তীব্র সৈন্য সংকট চলছে, যা দ্রুত সমাধান করা না গেলে বাহিনীটি একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির।
বুধবার (১ এপ্রিল) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে তিনি জানান, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যেই সেনাবাহিনী থেকে কয়েক হাজার সৈন্য কমে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অটুট রাখতে একটি বড় ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জোরারোপ করেন।
সংকট উত্তোরণে আইডিএফ প্রধানের ৩ দফা দাবি:
এই চরম জনবল সংকট মোকাবিলায় আইডিএফ প্রধান জরুরিভিত্তিতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন:
বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধি: পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার মেয়াদ বর্তমান ৩০ মাস থেকে পুনরায় বাড়িয়ে ৩৬ মাসে উন্নীত করা।
রিজার্ভ বা সংরক্ষিত বাহিনীর সংস্কার: সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের ডাকার প্রক্রিয়ায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা।
নতুন নিয়োগ আইন পাস: সামরিক বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে একটি বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী নিয়োগ আইন দ্রুত পাস করা।
কট্টরপন্থিদের অব্যাহতি ও ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ: আইডিএফ প্রধানের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসরায়েল সরকার কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি বা হারেদি সম্প্রদায়কে সামরিক বাহিনীতে যোগদান থেকে ঢালাওভাবে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার নতুন সৈন্যের (যাদের বেশিরভাগই লড়াকু যোদ্ধা) জরুরি প্রয়োজন থাকলেও, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার যোগ্য কট্টর অর্থোডক্স তরুণ সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে না। সরকারের এই বৈষম্যমূলক নীতির কারণে সামরিক বাহিনীর ভেতরে এবং সাধারণ নাগরিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংরক্ষিত বাহিনীর ওপর চরম চাপ: লেফটেন্যান্ট জেনারেল জামির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গত দুই বছরের টানা সংঘাতের কারণে নিয়মিত ও সংরক্ষিত—উভয় বাহিনীর ওপরই চরম মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়েছে। সৈন্য ঘাটতি পূরণ না হলে যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখসারির যোদ্ধার অভাব দেখা দেবে। এর চরম মূল্য চোকাতে হবে সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারকে, কারণ বারবার তাদেরই অতিরিক্ত সময়ের জন্য তলব করা হবে। এতে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে।
এর আগেও মন্ত্রিসভার বৈঠক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপকমিটির সভায় এই সৈন্য সংকট নিয়ে ‘লাল সংকেত’ দিয়েছিলেন আইডিএফ প্রধান। আগামী দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত মিশনের পরিধি আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি হারেদিদের সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়ার নীতিতে অটল থাকে, তবে ইসরায়েলের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক গভীর জনবল সংকটে নিমজ্জিত হবে।