রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসনে প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তবে চালক ও শ্রমিকদের জীবনজীবিকার কথা বিবেচনা করে হুট করে বন্ধ না করে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটি তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে:
প্রথম ধাপ: মতিঝিল থেকে উত্তরা এবং গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রধান ভিআইপি করিডোরগুলো থেকে অবৈধ অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজগুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা হবে।
তৃতীয় ধাপ: পুরো শহরজুড়ে অভিযান জোরদার করা হবে। তবে চালকদের বদলে মূলত গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্টের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করে এবং এতে প্রায় ৩৩ লাখ চালক নিয়োজিত। রাজধানীতে ২০ হাজার ৫৪৭টি গ্যারেজ এবং ১৬ হাজার ১৪৮টি চার্জিং পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে সিংহভাগই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এসব গ্যারেজ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
যানজট কমাতে বিকল্প সড়ক সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএমপি ও রাজউক। এর মধ্যে পূর্বাচল থেকে বনশ্রী পর্যন্ত একটি নতুন সংযোগ সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এই রুটটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তা ব্যবহার করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্বদেশ প্রপার্টি ও আফতাবনগরের পাশ দিয়ে সংযোগ তৈরি করবে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মিজানুর রহমান জানান, এই রুটটি বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ডিএমপির সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা হুট করে সব বন্ধ করে মানুষের জীবিকা সংকটে ফেলব না বা কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি করব না। আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার ট্রাফিক শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ইতিমধ্যে শুরু করেছে। ফুটপাত পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার পরেই অটোরিকশার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।