ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি মোকাবিলায় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার মতপার্থক্য এখন কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেফরি ফেল্টম্যানের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই বিভক্তিকে প্রকাশ্যে এনেছে।
ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন: সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেফরি ফেল্টম্যান কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরাইল এখন ইরানের পারমাণবিক বোমার চেয়েও তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেশি চিন্তিত। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল এবং ইসরাইলের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম। ওয়াশিংটন যখন পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, ইসরাইল তখন চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে।
আঞ্চলিক মিত্রদের আস্থাহীনতা: কেবল ইসরাইল নয়, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোও এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাদের ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’ বা ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে দেখা গেছে, ইরানের তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সেই বলয় ভেদ করে লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছে। ফেল্টম্যানের মতে, এই ‘প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা’ মিত্রদের মনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।