বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যে দোয়া পাঠ করবেন

ইসলামিক ডেস্ক / ৯ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ভ্রমণ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবিকা, শিক্ষা কিংবা মানসিক প্রশান্তির প্রয়োজনে আমাদের প্রায়ই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন ও আল্লাহর কুদরত দেখার জন্য ভ্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, “বলুন, তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো এবং দেখ, কীভাবে তিনি সৃষ্টি আরম্ভ করেছেন? তারপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (সুরা আনকাবুত: ২০)

ভ্রমণ যেমন আনন্দদায়ক ও শিক্ষণীয়, তেমনি এতে নানা ঝুঁকি ও বিপদের আশঙ্কাও থাকে। তাই সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নবীজি (সা.) বেশ কিছু আমল ও দোয়া শিখিয়েছেন। নিচে ভ্রমণের প্রধান আমলগুলো তুলে ধরা হলো:

১. ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দোয়া

সফরের প্রথম ধাপ হলো ঘর থেকে বের হওয়া। নবীজি (সা.) বলেছেন, কেউ যদি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়ে, তবে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায় এবং মহান আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

  • দোয়া: $بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ$

  • উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লাহাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

  • অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপরই নির্ভর করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই। (তিরমিজি: ৩৪২৬)

২. যানবাহনে আরোহণের পর দোয়া

বাস, ট্রেন, নৌকা বা বিমানে আরোহণের পর মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সুন্নত। যানবাহনে স্থিত হওয়ার পর নবীজি (সা.) এই দোয়া পড়তেন:

  • দোয়া: $سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لেনা هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ$

  • উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন।

  • অর্থ: তিনি পূতপবিত্র ওই সত্তা যিনি এই বাহনকে আমার অধীন করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে একে আয়ত্তে আনার ক্ষমতা ছিল না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

৩. সফরের বিশেষ আরজি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা

সফর সহজ করতে এবং পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য নবীজি (সা.) আরেকটি দীর্ঘ দোয়া পড়তেন (মুসলিম: ৯৭৮)। এই দোয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি ও ভয়ংকর দৃশ্য থেকে আশ্রয় চাইতেন।

  • উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তার দা। আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হাযা, ওয়াতওই আন্না বুদাহু। আল্লাহুম্মা আনতাস্‌-সাহিবু ফিস্‌-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল।

৪. যাত্রা বিরতি বা যাত্রাপথে অবস্থানের দোয়া

ভ্রমণের মাঝপথে কোথাও থামলে বা কোনো স্থানে রাত্রিযাপন করলে নবীজি (সা.) নিচের দোয়াটি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আমলটি করলে ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না বলে হাদিসে এসেছে।

  • দোয়া: $أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ من شَرِّ ما خَلَقَ$

  • উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

  • অর্থ: আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি। (মুসলিম: ২৭০৮)

ভ্রমণ কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর নেয়ামত ও সৃষ্টি নিয়ে ভাবনার এক সুযোগ। উপরোক্ত সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করলে আমাদের সফর যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি তা ইবাদত হিসেবেও গণ্য হবে, ইনশাআল্লাহ।


এ জাতীয় আরো খবর...