কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথর বর্তমান সময়ের একটি পরিচিত ও যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্যসমস্যা। কিডনিতে খনিজ ও লবণ জমে শক্ত পদার্থে পরিণত হলে এই সমস্যা দেখা দেয়, যা তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে কিডনি স্টোন প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে পানি, পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক সাইট্রেটসমৃদ্ধ কিছু ফল কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণ কার্যকর।
কোন ফলগুলো কিডনির পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং কেন করে, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক:
১. সাইট্রাস বা টকজাতীয় ফল
উপকারী ফল: লেবু, কমলা ও জাম্বুরা।
কীভাবে কাজ করে: এই ফলগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে ‘সাইট্রেট’ নামক যৌগ থাকে। ‘ক্লিনিক্যাল জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজি’ (CJASN)-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এই সাইট্রেট মূত্রে প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে। এটি ক্যালসিয়ামের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে অক্সালেটের সঙ্গে মিশে স্ফটিক (Crystal) তৈরি হওয়া রোধ করে। এই স্ফটিকগুলো জমতে জমতেই মূলত কিডনিতে পাথর তৈরি হয়।
২. জলীয় ও কম অক্সালেটযুক্ত ফল
উপকারী ফল: তরমুজ, আপেল, নাশপাতি, পেঁপে ও কলা।
কীভাবে কাজ করে: এসব ফলে অক্সালেটের পরিমাণ বেশ কম থাকে, তাই এগুলো কিডনির জন্য নিরাপদ। বিশেষ করে তরমুজের মতো জলীয় ফল শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে। পর্যাপ্ত পানির কারণে মূত্র পাতলা থাকে, ফলে কিডনিতে খনিজ পদার্থ সহজে জমাট বেঁধে পাথর হওয়ার সুযোগ পায় না।
গবেষক ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, ফলমূল কেবল শরীরকে হাইড্রেটেডই রাখে না, বরং কিডনির জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদানও সরবরাহ করে। নিয়মিত সাইট্রেট ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল খেলে তা পাথর গঠনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়।
সতর্কতা:
প্রাকৃতিক উপাদান কিডনির সুরক্ষায় কাজ করলেও, যাদের আগে থেকেই কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে বা বিশেষ কোনো ধরনের পাথর ধরা পড়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। খাদ্যতালিকায় যেকোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।