শিরোনামঃ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান / ২ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে এবার সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তিন দফা শর্ত ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (১১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শর্তগুলোর কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

পুতিন ও শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট নিরসনে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মিত্র দেশ দুটির শীর্ষ নেতাদের তিনি ইরানের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন এবং বলেন যে, আগ্রাসনের মুখে ইরান তার অবস্থান থেকে সরবে না।

তেহরানের তিন শর্ত

ইরানের প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে তিনটি মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:

১. হামলার ক্ষতিপূরণ: ইরানে চালানো সাম্প্রতিক হামলার ফলে যে পরিমাণ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২. অধিকারের স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের ন্যায্য ও বৈধ অধিকারগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৩. আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি: ভবিষ্যতে ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো প্রকার সামরিক আগ্রাসন বা হামলা চালাবে না—এই মর্মে একটি আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী ও আইনি গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

“ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ হলো—ইরানের ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না বলে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী গ্যারান্টি দিতে হবে।” — মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রেসিডেন্ট, ইরান।

বর্তমান পরিস্থিতি

পেজেশকিয়ানের এই কঠোর বার্তা এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতা চরমে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই তিন শর্ত মূলত যুদ্ধের দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। বিশেষ করে ‘আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি’র বিষয়টি তেহরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা নিশ্চিত না হলে ইরান কোনো সমঝোতায় যাবে না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত তেহরানের এই দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিব থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মস্কো ও ইসলামাবাদের সঙ্গে তেহরানের এই সমন্বয় আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...