শিরোনামঃ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

ব্যর্থ ইসরায়েলের রয়টার্সের সামনে অসহায় স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জেরুজালেম-তেহরান / ৭ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করেছিল, তা সফল হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে পর্দার আড়ালে স্বীকার করে নিচ্ছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাপক বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরানে কোনো বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

গণঅভ্যুত্থানের আশায় ‘গুড়ে বালি’

হামলা শুরুর দিনগুলোতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, তাদের এই সামরিক পদক্ষেপ ইরানি জনগণকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি দেবে। ১০ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি আবারও ইরানিদের প্রতি ‘ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার’ আহ্বান জানান।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই বারবার আকুতিই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারণা করেছিল, আক্রমণের পরপরই ইরানিরা রাজপথে নেমে সরকার পতন ঘটাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও বিদেশের মাটিতে আক্রান্ত হওয়ায় ইরানিদের একটি বড় অংশ এখন শাসকদেরই সমর্থন দিচ্ছে।

মোজতবা খামেনি ও পরিবর্তিত মার্কিন অবস্থান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোজতবা খামেনি। শুরুতে তাকে ‘দুর্বল’ মনে করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার নেতৃত্ব ইরানকে অস্থিতিশীল করতে পারেনি।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনই সংঘাত থামানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্দার আড়ালে যুদ্ধ শেষের উপায় খুঁজছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধ্বংসলীলা ও জনগণের ক্ষোভ

যৌথ হামলায় ইরানের অসংখ্য সামরিক স্থাপনা, সরকারি ভবন এবং বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক। এই প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণা এবং ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আদতে বর্তমান সরকারকে পতনের হাত থেকে এক প্রকার ‘সুরক্ষা কবচ’ দিচ্ছে।

ইরান সংকটের মূল ফ্যাক্টরসমূহ

  • 📉 ইসরায়েলি মূল্যায়ন: আক্রমণ চললেও গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
  • 🇮🇷 অভ্যন্তরীণ চিত্র: যুদ্ধের মুখে সাধারণ জনগণের জাতীয়তাবাদী সমর্থন বেড়েছে।
  • 🇺🇸 মার্কিন অবস্থান: জ্বালানি সংকটের ভয়ে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের চেষ্টা করছেন।
  • 🕋 নতুন নেতৃত্ব: মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানের প্রশাসন স্থিতিশীল।


এ জাতীয় আরো খবর...