ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ইতিমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দেশটিতে বর্তমানে যা অবশিষ্ট আছে, তা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগবে।
বুধবার (১১ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) এবং রাডার স্টেশনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছি। এমনকি তাদের অনেক শীর্ষ নেতাকেও নির্মূল করা হয়েছে।”
সরাসরি হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “আমরা যা ধ্বংস করেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমাদের আছে। ইরানে বর্তমানে যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেগুলো পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে আমাদের মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, এই পর্যায়ের ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান আর কখনো রাষ্ট্র হিসেবে আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠী হামলা করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ নির্ভার ভঙ্গি দেখান। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তিনি মোটেও বিচলিত নন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। যদিও ওই অঞ্চলে এখনো ইরানি বাহিনীর হামলার ঝুঁকি প্রবল, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নির্ভয়ে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই “এক ঘণ্টার” হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তেহরান এখনো এই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও, দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। ট্রাম্পের এমন সরাসরি হুমকি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।