শিরোনামঃ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

ইরানের ‘৮০ মাথার’ ক্ষেপণাস্ত্র: আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো ঝরছে মরণাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জেরুজালেম-তেহরান / ৩ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তিতে ক্লাস্টার মিউনিশন বা গুচ্ছ বোমার ব্যাপক ব্যবহার ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বহুগুণ বেশি বিধ্বংসী এই মরণাস্ত্রের কারণে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

সাধারণ বনাম ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র: পার্থক্য যেখানে

একটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র যেখানে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, সেখানে ইরানের এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে থাকা অবস্থাতেই কয়েক ডজন ছোট ছোট বোমায় (সাব-মিউনিশন) বিভক্ত হয়ে যায়।

  • ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা: ইরানের খোররামশহর-৪, সেজ্জিল-২ এবং ইমাদ-এর মতো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ছোট বোমা বহন করতে সক্ষম।

  • আঘাতের কৌশল: ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েক কিলোমিটার উঁচুতে মূল ক্ষেপণাস্ত্রটি ফেটে গিয়ে এই ছোট বোমাগুলো বিশাল এলাকাজুড়ে বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ে। ফলে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অসহায়ত্ব

ইসরায়েলের ‘অ্যারো’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’-এর মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত একটি ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে ডিজাইন করা। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যখন মাঝ আকাশে ৮০টি বোমায় বিভক্ত হয়ে যায়, তখন প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশকে শনাক্ত করে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই ‘ব্লাইন্ড স্পট’-এর সুযোগ নিয়েই ইরানের মরণাস্ত্রগুলো মধ্য ইসরায়েলের জনবহুল এলাকাগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে।

‘জীবন্ত বোমা’ ও দীর্ঘমেয়াদী আতঙ্ক

এই মারণাস্ত্রের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর অনির্দিষ্ট ধ্বংসক্ষমতা। জনবহুল শহরগুলোতে এই বোমা ছড়িয়ে পড়লে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।

ল্যান্ডমাইন আতঙ্ক: হামলার সময় সব ছোট বোমা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরিত হয় না। অনেকগুলো অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে, যা পরবর্তীতে ল্যান্ডমাইন বা ‘জীবন্ত বোমার’ মতো কাজ করে। বছরের পর বছর এগুলো ঝোপঝাড় বা মাটির নিচে লুকিয়ে থেকে সাধারণ মানুষের প্রাণনাশের কারণ হতে পারে।

সমরকৌশলে বড় পরিবর্তন

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে চালানো প্রায় ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অর্ধেকই ছিল এই ক্লাস্টার ওয়ারহেড সমৃদ্ধ। গত বছরের জুন মাসের যুদ্ধের তুলনায় এবার এই অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা একে আধুনিক যুদ্ধকৌশলে ইরানের এক বড় ধরনের ‘স্ট্র্যাটেজিক শিফট’ হিসেবে দেখছেন।


এ জাতীয় আরো খবর...