শিরোনামঃ
স্পিকারের ‘শূন্য চেয়ার’ দিয়েই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা জুলাই সনদ নিয়ে আসিফ মাহমুদের ৪ শব্দের স্ট্যাটাস: মুহূর্তেই ভাইরাল রমজানে কফি পান: ক্যাফেইন ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখবেন যেভাবে গাজীপুরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ: অগ্নিদগ্ধ ৩ পথচারী ঢাকায় স্থানান্তরিত দীপিকার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের শর্ত মনে করিয়ে দিলেন কারিনা ইরানি নারী ফুটবলারদের মানবিক ভিসা ও ট্রাম্পের বার্তা জুলাই সনদ নিয়ে চরম সংকট: আবারও কি রাজপথে ফিরছেন নাহিদ-আসিফরা? নতুন আন্দোলনের ইঙ্গিত জামায়াত-এনসিপির! রেলে ঈদযাত্রা: ৩১ হাজার আসনের বিপরীতে লাখো যাত্রী রাশিয়ার তেল কিনতে চায় বাংলাদেশ: ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ ছাড়ের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলে একযোগে ১০০ রকেট ছুড়লো হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৈরুত-তেল আবিব / ১৭ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে একযোগে প্রায় ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর চালানো এটিই সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

রণক্ষেত্রে পরিণত ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) নিশ্চিত করেছে যে, হিজবুল্লাহর এই রকেট বৃষ্টির মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল। লেবাননের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থান থেকে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এই বিশাল সংখ্যক রকেট ছুড়েছে গোষ্ঠীটি। রকেট হামলার পরপরই উত্তর ইসরায়েলের আকাশ ছেয়ে যায় ধোঁয়ায়, আর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা।

সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত শহরগুলো

হিজবুল্লাহর এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলার প্রভাবে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী হাইফা, এর পাশাপাশি আপার গালিলি এবং গোলান উপত্যকায় একটানা সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম) কিছু রকেট রুখে দিলেও বেশ কিছু রকেট সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় হামলা

বিশ্লেষকরা বলছেন, দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াইয়ে জড়ানোর পর থেকে এটিই হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় এবং সুসংগঠিত আক্রমণ। এর আগে ছোট ছোট গ্রুপে রকেট বা ড্রোন হামলা চালানো হলেও, একযোগে ১০০ রকেটের এই হামলা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যূহকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এই হামলার বদলা নিতে লেবাননের অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

এক নজরে: হিজবুল্লাহর শক্তি ও আয়রন ডোম

🚀 হিজবুল্লাহর রকেট বহর

  • 🔹 বিশাল মজুদ: ধারণা করা হয় হিজবুল্লাহর কাছে ১.৫ লাখেরও বেশি রকেট ও মিসাইল রয়েছে।
  • 🔹 পাল্লা: তাদের কাছে থাকা ‘ফাতেহ-১১০’ মিসাইল ৩০০ কিমি দূর পর্যন্ত নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম।
  • 🔹 বিধ্বংসী ক্ষমতা: একযোগে শত শত রকেট ছুড়ে ইসরায়েলি রাডারকে বিভ্রান্ত করার কৌশল (Saturate) তারা ব্যবহার করে।

🛡️ আয়রন ডোম (Iron Dome)

  • 🔸 সফলতা: ইসরায়েলের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৯০% রকেট আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম।
  • 🔸 সীমাবদ্ধতা: যখন একসঙ্গে শতাধিক রকেট (যেমন আজকের হামলা) ছোড়া হয়, তখন সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়ে এবং কিছু রকেট লক্ষ্যভেদ করে ফেলে।
  • 🔸 ব্যয়: প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মূল্য প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন ডলার।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সংস্থা


এ জাতীয় আরো খবর...