বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে কয়েক ডজন মাইন বসিয়েছে ইরান। মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভাণ্ডারে বর্তমানে ৬ হাজারেরও বেশি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক মাইন রয়েছে, যা দিয়ে তারা যেকোনো সময় এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথটি পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৯ সালে ইরানের কাছে প্রায় ৫ হাজার মাইন থাকলেও ২০২৬ সালের শুরু নাগাদ এই সংখ্যা ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
সিএনএন-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরান হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন অংশে কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। যদিও এই সংখ্যাটি এখন পর্যন্ত খুব বড় নয়, তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো সতর্ক করেছে যে, ইরানের মাইন স্থাপনকারী ছোট নৌকা ও জাহাজের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সক্ষমতা এখনো অক্ষত। ফলে তারা চাইলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শত শত মাইন বিছিয়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরানের কাছে তিন ধরনের মরণঘাতি মাইন রয়েছে:
লিম্পেট মাইন: যা জাহাজের গায়ে চুম্বকের মতো লাগিয়ে দেওয়া যায়।
মোর্ড মাইন: যা পানির নিচে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং জাহাজের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরিত হয়।
বটম মাইন: যা সমুদ্রের তলদেশে বসানো থাকে এবং ওপর দিয়ে কোনো জাহাজ গেলে সেন্সরের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে বিস্ফোরণ ঘটায়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। এই জলপথ মাইন বসিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন:
‘যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তাহলে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক।’
ট্রাম্পের এই বার্তার পর ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি মাইন সরানো শুরু না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অ্যাকশনে যেতে পারে।